Wednesday, May 27, 2015

টুইটারে প্রবল নিন্দা, সমালোচকদের চড় মেরে শিক্ষা দেওয়ার হুমকি মেয়রের ভাইঝির 

@ অ বি ন  মি ত্র
ফের বিতর্কে কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ভাইঝি দেবপ্রিয়া চট্টোপাধ্যায়। এবার টুইটারে সমালোচকদের কটূক্তি করার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ নিগ্রহের পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচককে চড় মারার হুমকি দিলেন তিনি।
ভাইঝি দেবপ্রিয়া। ছবি টুইটার পেজ থেকে।
চার বন্ধুর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে প্রথমে পথচারীকে ধাক্কা। অদূরে, রাসবিহারী মোড়ে ট্রাফিক আইন ভাঙার পর উল্টে ‘বংশ-পরিচয়’ জাহির করে পুলিশকেই নিগ্রহ করার অভিযোগ। যার প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে দেবপ্রিয়া।
অথচ, গোটা ঘটনায় তাঁর ওপর যে কোনও প্রভাব পড়েনি, তা আরও একবার প্রকট হয়ে উঠল। তাঁকে নিয়ে চারিদিকে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করতে সেই ‘বংশ-পরিচয়’কেই হাতিয়ার করলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় সেই ‘বাচ্চা মেয়ে’টি।
ঘটনার সূত্রপাত টুইটারে। সেখানে এক মহিলা পুলিশ-নিগ্রহ কাণ্ড নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে দেবপ্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। দেবপ্রিয়ার টুইটার হ্যান্ডল ‘@chattydebby’-কে উদ্দেশ্য করে ওই মহিলা বলেন, ‘মেয়রের ভাইঝি হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা। যার জেরে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর কেসে পুলিশকে চড় মারতে (নিগ্রহ) পারেন তিনি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘অপেক্ষা করছি, এবার কোনও এক বঙ্গ-সাম্মানিক অভিজিৎ হয়ত প্রশ্ন তুলবেন, রাস্তার মাঝে ট্রাফিক সিগন্যাল কী করছিল?’
ফের বয়কট রাজনীতিতে ফিরল তৃনমূল ? 
অভিযোগ - পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

@ অ বি ন  মি ত্র

"উন্নয়নে ফের রাজনীতির রঙ আনল তৃনমূল", শিলিগুরি পুর নিগমের বিষয়ে মহাকরণে মন্ত্রী দের সাথে কথা বলতে এসে এই অভিযোগ করলেন শিলিগুড়ির নবনির্বাচিত মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য।

মহাকরণের বাইরে অশোক ভট্টাচার্য। বুধবার।
আগে থেকে পত্র মারফত সময় নিয়ে রাজ্যের জনস্ব্যাস্থ কারিগরী মন্ত্রী সুব্রত মুখাজী ও পুর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী ফিরাদ হাকিমের সাথে দেখা করতে বুধবার মহাকরণে আসেন অশোক বাবু। কিন্তু অপেক্ষাই সার। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে এক সচিবের সাথে অল্প কিছুক্ষণ কথা বলে তিনি ফিরে যান। পরে সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক সেরে শিলিগুড়ি ফেরার পথে তিনি বলেন, "আমি দীর্ঘদিন রাজ্যের মন্ত্রী ছিলাম। সে সময়ে কলকাতা পুরসভার দরকারে মেয়র সুব্রত মুখারজী দেখা করতে এলে তাকে আমার পাশের চেয়ারে বসাতাম। ববিও কোন কাজে এলে কখনও ফেরাইনি। অথচ আজ আমি আগে থেকে সময় নিয়েই এসেছিলাম এবং ওরাও দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু আর দেখা করলেন না। আমি শিলিগুড়ির মানুষের স্বার্থে কথা বলতে এসেছিলাম, ওনারা শিলিগুড়ি বাসীদের অপমান করলেন।"
সুব্রত মুখারজী ও ববি হাকিম। ফাইল চিত্র।
অশোক বাবুর আনা এই অভিযোগের পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সাংবাদিকদের পুর মন্ত্রী ও জনস্ব্যাস্থ কারিগরী মন্ত্রী বলেন, এখন বিধান সভা অধিবেশন চলছে, তা আগেই অশোক বাবুকে জানান হয়েছিল। আমরা বিধাসভাতেই ছিলাম। উনি চাইলে আসতেই পারতেন। কথা বলতা্তেইএ বিষয়ে অশোক বাবু বলেন, আমাকে সময় দেওয়া হয়েছিল মহাকরণে দেখা করার জন্যই।
রাজনৈতিক মহলের মতে শিলিগুড়ির উন্নয়নের স্বার্থে মেয়রের সাথে দেখা করতে ইছুক ছিলেন  জনস্ব্যাস্থ কারিগরী মন্ত্রী সুব্রত মুখাজী ও পুর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম। কিন্তু দলনেত্রীর নির্দেশে তারা পিছিয়ে এলেন। অর্থাৎ তৃনমূল সেই বাম বয়কটের পথেই গেল। যদিও তৃনমূল সুত্রে জানান হয়েছে এদিন বিধান সভায় দিনহাটার পুর চেয়ারম্যান উদয়ন গুহের সাথে দেখা করেছেন দুই মন্ত্রী। সুতরাং বয়কটের প্রশ্নই ওঠে না। আবার সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, শিলিগুড়ির মেয়রের সাথে দেখা করলে ওই দুই মন্ত্রীর চাকরি চলে যাওয়ার ভয় আছে। তাই এই উপেক্ষা।
এর পরেও শিলিগুড়ি ফেরার আগে মেয়র অশোক বাবু বলেন, "শিলিগুড়ির মানুষের জন্য ফের আসব দেখা করতে।"
নমো সরকারের বর্ষ পূর্তিতে রাগার আমেঠীতে সভা স্মৃতি ইরানির

বেঙ্গল টাইমস - রাহুল গান্ধীর কেন্দ্রে এবার তাঁকে পাল্টা আক্রমণের রাস্তা বেছে নিল বিজেপি। সরকারের এক বছরে তাঁর কেন্দ্রে পাঠানো হল কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে।
গত বছর লোকসভা নির্বাচনে আমেঠিতে রাহুলের বিরুদ্ধে স্মৃতিকেই প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নির্বাচনে হেরে যান স্মৃতি। তা সত্ত্বেও তাঁকে মন্ত্রী করা হয়। রাজ্যসভা থেকেই মন্ত্রী হন স্মৃতি। স্মৃতি কথা দিয়েছিলেন, হেরে গেলেও আমেঠির সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। সরকারের বর্ষপূর্তিতে তাই বেছে নিলেন আমেঠিকেই।
আমেঠির বিভিন্ন জায়গায় সভা করলেন স্মৃতি। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসা বিমা যোজনায় বছরে বারো টাকার প্রিমিয়াম দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। সেই প্রকল্পের প্রচার করে স্মৃতি একেক জায়গায় পাঁচ হাজার কৃষকের এক বছরের প্রিমিয়াম দিলেন। এভাবেই পাঁচ জায়গায় ২৫ হাজার কৃষকের প্রিমিয়াম দিলেন। স্মৃতি বললেন, ‘এটা সরকারি টাকা নয়। আপনারা আমাকে দিদি ও বোনের মর্যাদা দিয়েছেন। তাই আপনাদের প্রতি আমারও দায়িত্ব আছে। নিজের সঞ্চয় থেকেই এই টাকা দিচ্ছি।’ পাশাপাশি বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন। নতুন রেল লাইন, নতুন ট্রেনের কথাও উঠে আসে। তাঁর কথায়, দশ বছরে যা হয়নি, তা দশদিনে হয়ে গেল। এবার আমেঠি ও রায়বেরিলির বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন ট্রেন চলবে।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কৃতিত্ব যেন রাহুল গান্ধী না নিতে পারেন, তাই স্মৃতি আগাম সেগুলি ঘোষণা করে দিলেন।
এবার থেকে বম্বেবাসী ব্যারেটো

বেঙ্গল টাইমস - এই শহর জানে আমার প্রথম সবকিছু। যে শহরের সঙ্গে প্রায় ষোল বছরের সম্পর্ক, সেই শহর সম্পর্কে এমন গান গাইতেই পারেন হোস র‍্যামিরেজ ব্যারেটো। সেই সম্পর্ক এবার ছিন্ন হতে চলেছে। কলকাতা ছেড়ে এবার মুম্বইয়ের বাসিন্দা হতে চলেছেন এই ব্রাজিলীয় ফুটবলার।
খেলা ছাড়ার পর ভেবেছিলেন, মন দিয়ে কোচিং করবেন। গত বছর যোগ দিয়েছিলেন অ্যাটলেটিকো দি কলকাতায়। বেশ মোহভঙ্গই হয়েছে এই ব্রাজিলীয় ফুটবলারের। ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, তাঁকে নেওয়া হয়েছে সহকারি কোচ হিসেবে। অথচ, ফুটবলার নিয়োগ থেকে শুরু করে, টেকনিক্যাল কোনও ব্যাপারেই তাঁর পরামর্শও নেওয়া হয়নি। এমনকি টিম হোটেলে তাঁর জায়গাও হয়নি। প্রকাশ্যে ক্ষোভ না জানালেও বেশ অভিমানী হয়ে পড়েছিলেন এই ব্রাজিলীয় ফুটবলার। কিন্তু কখনও দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাননি ‘টিমম্যান’ ব্যারেটো। এবার তাঁকে দলের সঙ্গে রাখা হবে না, এমন সিদ্ধান্তও আগেই নিয়ে ফেলেছেন অ্যাটলেটিকোর কর্তারা। লোকমুখে সেসব কথা শুনেছেন, কষ্ট পেয়েছেন ‘সবুজ তোতা।’
তাই মুম্বই থেকে প্রস্তাবটা আসার পর সেখানেই যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন। পরিবার নিয়ে চলেও গেছেন। রিলায়েন্সের আকাদেমির দায়িত্ব নিচ্ছেন। তারকা নয়, আপাতত বাচ্চাদের নিয়েই কাজ করতে চান। তরুণ ফুটবলারদের পাশাপাশি তিনি নিজেও কোচ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান। আপাতত ব্যারেটোর ঠিকানা মুম্বই।
সেই ২০০০ সালে এসেছিলেন মোহনবাগানে। দু‘বার লিগ জয়ে পেছনে তাঁর অবদান অনেকটাই। ২০০৩ নাগাদ, তখনকার কর্তাদের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে ফিরে যান ব্রাজিলে। ফিরে আসেন বছর দুই পর, সেবারও অবশ্য এসেছিলেন মুম্বইয়ে, সই করেছিলেন মাহিন্দ্রায়। মাহিন্দ্রাকে জাতীয় লিগ, ফেড কাপ দুটোই এনে দিয়েছিলেন। পরের মরশুমে আবার কলকাতায় প্রত্যাবর্তন। তারপর থেকে কলকাতার সুখ দুঃখের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন।
খেলা ছাড়ার পর অনেকে দেশে ফিরে গেলেও তিনি থেকে গেছেন। হয়ত বাকি জীবনটাও থেকে যাবেন। তবে প্রিয় কলকাতা ছেড়ে ঠিকানা আপাতত মুম্বই। আবার ফিরে আসবেন ? হতেই পারে। এই শহরের আবেগ যে তাঁকেও ছুঁয়ে যায়। তাই আবার হয়ত ফিরে আসবেন, অন্য কোনও ভূমিকায়। কে বলতে পারে, কয়েক বছর পর মোহনবাগানের কোচের নাম ব্যারেটো হবে না!

ক্রীড়া নীতির নামে মিথ্যাচারের অভিযোগ

বেঙ্গল টাইমস - ক্রীড়ানীতি পেশ করল সরকার। দাবি করা হল, এই প্রথম কোনও রাজ্য নিজস্ব ক্রীড়ানীতি তৈরি করল। এমন দাবি করলেন আপাতত ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
কিন্তু ঘটনা হল, প্রায় ছ’ বছর আগে এই ক্রীড়ানীতি তৈরি করেছিলেন কান্তি গাঙ্গুলি। সুভাষ চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হন কান্তি গাঙ্গুলি। বিভিন্ন খেলোয়াড়, সংগঠক, সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি চূড়ান্ত করেছিলেন ক্রীড়ানীতি। ক্যাবিনেটে তা অনুমোদন হল। বিধানসভায় আলোচনা হল। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকেও পাঠানো হল। বিষয়টি নিয়ে সরকারি স্তরে নানারকম আলোচনা হল। সেই ক্রীড়ানীতি অনুযায়ী বিভিন্ন রকম কাজও হল।
এখন সরকার দাবি করছে, তাঁরাই নাকি প্রথম ক্রীড়ানীতি তৈরি করেছেন। যদি বলতেন, আগেরটায় অনেক ভুলছিল, আমরা নতুন করে তৈরি করছি, তবু না হয় যুক্তি ছিল। কিন্তু আগে যে ক্রীনানীতি তৈরি হয়েছিল, সেই কথাটাই বেমালুম এড়িয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রীমশাই। সেই ক্রীড়ানীতি তৈরিতে বড় ভূমিকা ছিল তখনকার ক্রীড়াসচিব রাঘবেন্দ্র সিংয়ের। তিনি এখনও এই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ আমলা। তাঁকে জিজ্ঞেস করলেই তো বোঝা যাবে। সেই সময়ের কাগজগুলো খুলে দেখুন। স্পষ্ট বুঝতে পারবেন।
হতেই পারে, এখন যিনি মন্ত্রী, তিনি তখনকার খোঁজ রাখেননি। এমন অনেক বিষয়েই তাঁরা অজ্ঞ, তা বহুবার নানা ঘটনায় প্রমাণিত। কিন্তু যখন ক্রীড়ানীতি তৈরি করবেন বলেছিলেন, তখনই কান্তি গাঙ্গুলি আগের সেই ক্রীড়ানীতির কপি, তাঁকে ঘিরে নানারকম নথিপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। হতেই পারে, তা মন্ত্রীর পছন্দ নয়। হতেই পারে, তিনি অন্যরকমভাবে করতে চান। তাই বলে আগেরটাকে অস্বীকার করে নিজেরটাকে প্রথম বলে দাবি করতে হবে ? ‘আগে এরকম একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল’ এই সামান্য সত্যিটুকু স্বীকার করলে কী এমন ক্ষতি হয়ে যেত!
দুটো ক্রীড়ানীতিকে পাশাপাশি রাখুন। পড়লেই বোঝা যাবে, একটা দেখে আরেকটা করা হয়েছে। যাঁরা একটু পড়াশোনা ও লেখেলেখি নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরা দুটোর ভাষা দেখলেই বুঝতে পারবেন, কতটা মিল। এর পরেও আগেরটা বেমালুম অস্বীকার করা ? নিজেকে মুর্খ ও মিথ্যেবাদী প্রমাণ করাটা কি খুব জরুরি ছিল ?
একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীকে ‘ডাঁহা মিথ্যেবাদী’ বলতে খারাপই লাগে। কিন্তু এছাড়া আর উপায় কী ? এমন নির্লজ্জ মিথ্যেবাদীরাই এ রাজ্যের মন্ত্রী। যাদের সামান্য সত্যিটুকু স্বীকার করার সৎসাহস নেই, তাঁরা চালাবেন খেলার মাঠ ? তিনি কিনা মোহনবাগানের সহ সভাপতি হতে চাইছেন!
মিথ্যে বলার শিক্ষাটা এমন রপ্ত করেছেন, সামান্য সত্যিটুকুও বোধ হয় বলতে ভুলে গেছেন। প্রতিদিন প্রমাণ করছেন, মন্ত্রী হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাটুকুও এঁদের নেই। খেলার মাঠ বা মন্ত্রীসভা, কোনওটাই এঁদের জায়গা নয়।