ক্রীড়া নীতির নামে মিথ্যাচারের অভিযোগ
বেঙ্গল টাইমস - ক্রীড়ানীতি পেশ করল সরকার। দাবি করা হল, এই প্রথম কোনও রাজ্য নিজস্ব ক্রীড়ানীতি তৈরি করল। এমন দাবি করলেন আপাতত ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
কিন্তু ঘটনা হল, প্রায় ছ’ বছর আগে এই ক্রীড়ানীতি তৈরি করেছিলেন কান্তি গাঙ্গুলি। সুভাষ চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হন কান্তি গাঙ্গুলি। বিভিন্ন খেলোয়াড়, সংগঠক, সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি চূড়ান্ত করেছিলেন ক্রীড়ানীতি। ক্যাবিনেটে তা অনুমোদন হল। বিধানসভায় আলোচনা হল। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকেও পাঠানো হল। বিষয়টি নিয়ে সরকারি স্তরে নানারকম আলোচনা হল। সেই ক্রীড়ানীতি অনুযায়ী বিভিন্ন রকম কাজও হল।
এখন সরকার দাবি করছে, তাঁরাই নাকি প্রথম ক্রীড়ানীতি তৈরি করেছেন। যদি বলতেন, আগেরটায় অনেক ভুলছিল, আমরা নতুন করে তৈরি করছি, তবু না হয় যুক্তি ছিল। কিন্তু আগে যে ক্রীনানীতি তৈরি হয়েছিল, সেই কথাটাই বেমালুম এড়িয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রীমশাই। সেই ক্রীড়ানীতি তৈরিতে বড় ভূমিকা ছিল তখনকার ক্রীড়াসচিব রাঘবেন্দ্র সিংয়ের। তিনি এখনও এই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ আমলা। তাঁকে জিজ্ঞেস করলেই তো বোঝা যাবে। সেই সময়ের কাগজগুলো খুলে দেখুন। স্পষ্ট বুঝতে পারবেন।
হতেই পারে, এখন যিনি মন্ত্রী, তিনি তখনকার খোঁজ রাখেননি। এমন অনেক বিষয়েই তাঁরা অজ্ঞ, তা বহুবার নানা ঘটনায় প্রমাণিত। কিন্তু যখন ক্রীড়ানীতি তৈরি করবেন বলেছিলেন, তখনই কান্তি গাঙ্গুলি আগের সেই ক্রীড়ানীতির কপি, তাঁকে ঘিরে নানারকম নথিপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। হতেই পারে, তা মন্ত্রীর পছন্দ নয়। হতেই পারে, তিনি অন্যরকমভাবে করতে চান। তাই বলে আগেরটাকে অস্বীকার করে নিজেরটাকে প্রথম বলে দাবি করতে হবে ? ‘আগে এরকম একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল’ এই সামান্য সত্যিটুকু স্বীকার করলে কী এমন ক্ষতি হয়ে যেত!
দুটো ক্রীড়ানীতিকে পাশাপাশি রাখুন। পড়লেই বোঝা যাবে, একটা দেখে আরেকটা করা হয়েছে। যাঁরা একটু পড়াশোনা ও লেখেলেখি নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরা দুটোর ভাষা দেখলেই বুঝতে পারবেন, কতটা মিল। এর পরেও আগেরটা বেমালুম অস্বীকার করা ? নিজেকে মুর্খ ও মিথ্যেবাদী প্রমাণ করাটা কি খুব জরুরি ছিল ?
একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীকে ‘ডাঁহা মিথ্যেবাদী’ বলতে খারাপই লাগে। কিন্তু এছাড়া আর উপায় কী ? এমন নির্লজ্জ মিথ্যেবাদীরাই এ রাজ্যের মন্ত্রী। যাদের সামান্য সত্যিটুকু স্বীকার করার সৎসাহস নেই, তাঁরা চালাবেন খেলার মাঠ ? তিনি কিনা মোহনবাগানের সহ সভাপতি হতে চাইছেন!
মিথ্যে বলার শিক্ষাটা এমন রপ্ত করেছেন, সামান্য সত্যিটুকুও বোধ হয় বলতে ভুলে গেছেন। প্রতিদিন প্রমাণ করছেন, মন্ত্রী হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাটুকুও এঁদের নেই। খেলার মাঠ বা মন্ত্রীসভা, কোনওটাই এঁদের জায়গা নয়।
No comments:
Post a Comment